টমাস আলভা এডিসনের ভাই যখন বিসিএস ক্যাডার - দৈনিকশিক্ষা

টমাস আলভা এডিসনের ভাই যখন বিসিএস ক্যাডার

মনোয়ার রুবেল |
টমাস আলভা এডিসনের চাচাতো ভাই বিসিএস কোনো এক ক্যাডারে টিকেছেন। ফেসবুকে গ্রামের যুবকেরা অভিনন্দন জানাচ্ছেন৷ গ্রামের গর্ব বলেও লিখেছেন৷ 
 
তারা কেউ কখনো লেখেননি- এডিসন আমাদের গর্ব। অথচ তিনি বিজলি বাতি আবিষ্কার না করলে এরা অন্ধকারেই থেকে যেতেন।
 
আবার আফসোসও হচ্ছে৷ এরা এখনো অন্ধকারেই রয়ে গিয়েছে। অন্ধকারে আছে বলেই এদের কাছে বিসিএসই পৃথিবীর সবচেয়ে সেরা জ্ঞান। অল্পশিক্ষিতের সমাজে বিসিএসই সর্বোত্তম পদক হয়। এখানে সেটাই। 
 
এডিসন ফেসবুকে দেখলেন- কেউ একজন লিখেছেন, 'কাসেম আমাদের অহংকার'! এই কাসেমই এডিসনের চাচাতো ভাই। 
 
এডিসন যখন ফিলামেন্ট নিয়ে দৌড়াচ্ছিলেন কাসেম তখন কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স আওড়াচ্ছিলেন। কে জানতো, মুখস্থবিদ্যার এতো কদর! চাকুরির পরীক্ষার এতো সম্মান?
 
এডিসন রাগে ক্ষোভে কল দিলেন জেপি মর্গানকে। জেপি তার বন্ধু। দুজন মিলে এডিসন ইলেক্ট্রিক কোম্পানি খুলেছিলেন। এডিসন ব্যবসা বোঝেন না, জেপি ভালো বিজ্ঞান বোঝে না। দুজনেরই দরকার দুজনকে। তারা প্রতিষ্ঠান করেন জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি- সংক্ষেপে জিইসি। জিইসিতো এখনো টিকে আছে৷ জেপির রেল ব্যবসা, ব্যাংক ব্যবসা ফুলেফেঁপে একাকার। 
মনোয়ার রুবেল

এডিসন সেদিন ফোন করে বললেন- 

- জেপি!  ভাই আমি তো মহা ঝামেলায় আছি। 
- কী হয়েছে?
- আগে তুই বল তো, একজন বিজ্ঞানী, একজন গবেষক, একজন শিল্পী বা একজন লেখকের চেয়ে বিসিএসের চাকরি পাওয়া কি বেশি সম্মানের? 
- হ্যাঁ। এটা সমাজ ভেদে ডিপেন্ড করে। নিরক্ষরদের সমাজে এটা বেশি সম্মানের। ডান্ডা মেরে ঠান্ডা করার ক্ষমতাই সেই সমাজে আসল।
- তো বিজ্ঞান? সাহিত্য চর্চা?
- তারা বুঝবে না। তাদের মস্তিষ্কের লেভেল সেই স্তরের হবে না৷ 
- এমনও সমাজ আছে? 
- শ দেড়শ বছর পরে এমন একটি দেশ হবে গঙ্গার তীর ঘেঁষে। সেখানে হালের বলদের চাষ হবে অঢেল। রাস্তায় গোবর, ফেসবুকে গোবর, মাথায় গোবর৷ বলতেই আমার গা ঘিন ঘিন করছে রে 'এডি'।
- কি বলিস?
- তুই বোধহয় জানিস না, ওটা ব্রিটিশদের কলোনি ছিলো। তখন সেই সমাজে 'কেরানি' হওয়াটাকে সম্মানজনক ভাবা হতো। ব্রিটিশরা সেখানে কেরানি তৈরির জন্য স্কুল করেছিল। তাদের মানসিকতাই কেরানির। জীবনের লক্ষ্য কেরানি হওয়া। 
- দোস্ত আমি তো এখন সেই ভয়ংকর জায়গায় আটকে গেছি। 
 
টমাস আলভা এডিসন হুহু করে কেঁদে উঠলেন। 
-তুই আমাকে উদ্ধার কর।
- কিন্তু, তুই তো আটকাস নি৷ তুই মৃত্যু ঘুমে টাইম ট্রাভেল করছিস। কিছুক্ষণ পর তুই অন্য টাইমে চলে যাবি। সেখানে কালি দাস পণ্ডিতের সাথে দেখা হবে, লালন নামের চারণ শিল্পীর সঙ্গে দেখা হবে, খেপা পাগল হাছনের সঙ্গে দেখা হবে। সেই সময়ে সেই সমাজে বিদ্বান, বিদগ্ধ জনদের সম্মান দেখবি। বিসিএস দেখবি না।
- আচ্ছা এই বিসিএস জিনিসটা কী?  
- চাকুরির পরীক্ষা!
- মানে এডিসন ইলেক্ট্রিক কোম্পানিতে যেভাবে লোক নিই, তেমনই?
- হু, তেমনই?
- আরিব্বাস!
 
এডিসন আবার বললেন-
- টাইম ট্রাভেলে আমাকে এই সময়টা স্কিপ করে দে দোস্ত। এই সমাজে বিজ্ঞানী নাই, গবেষক নাই, সাধক নাই৷ এখানে বেঁচে থাকা অসম্ভব। তার চেয়ে বড় কথা, এখানে অমুক তমুক ভাইয়ের সাথে চা খেয়ে ছবি তোলায় এরা জীবন ধন্য মনে করে৷ নিজেদের পরিচয় নেই, আত্মসম্মান নেই।  - তাদের এক সাধক ছিলো মহাকবি। নাম নবীন চন্দ্র সেন। তিনি লিখে গেছেন তার অঞ্চলে ভাই প্রথার কথা। তারা 'ভাই'এর পেছনে চলে, শ্লোগান দেয়। ভাই এর ওপর তাদের ভক্তি শ্রদ্ধা অসীম। 
- বড় পুণ্যবান মানুষ ছিলেন, তাই নারে?
- তিনি নিজেও সিভিল সার্ভেন্ট ছিলেন।
- বিসিএস?
- না। তখন তো ব্রিটিশ ভারত। তবে সে আমলে টুকে পাস ছিল না। তিনি সাধক ছিলেন বলতে হয়। মহাকাব্য লিখেছেন। সে সময় সাধকদের সম্মান ছিলো। চাকুরেরা প্রণাম করতো পায়ে পড়ে। তাই চাকুরেরাও সাধক হতে চাইতেন। 
- কিন্তু আমি কোন যুগে এসে পড়লাম। এখানে তরুণরা ওই চাকুরির পূজা করছে। যে চাকুরি পেলো তার সাথে ছবি তুলে পোস্ট দিচ্ছে। কবি, সাহিত্যিক, লেখক, বিজ্ঞানী- এরা কই?
- তুই দেড়শ বছর পরের সেই সমাজে আছিস। 
- এ-তো অন্ধ মানুষের সমাজ রে। এখানে কে কতো বড় চাকর হবে তা দিয়ে মানুষের সম্মান মাপা হয়৷ এখানে এডিসন থাকতে পারে, তুই বল?
 
জেপি ফোন রেখে দিলেন। 
 
এডিসন ফেসবুকে ঢুকে লিখলেন, ‘একজন বিজ্ঞানীর চেয়ে বিসিএসের সম্মান বেশি নয়’। লোকেরা নিচে এসে কমেন্টে হা হা রিয়েক্ট দিলো। খিক খিক হাসি দিলো। টিটকারি করলো। ট্রল করলো। 
 
এডিসনের মন আরও খারাপ হলো। জেপি বলেছিল, মূর্খদের সমাজে জ্ঞান ফলাস না। কায়দা করে বেঁচে থাকবি। 
 
সেটা করাই ভালো ছিলো।
 
লেখক : মনোয়ার রুবেল,  কলামিস্ট

শিক্ষাসহ সব খবর সবার আগে জানতে দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেলের সঙ্গেই থাকুন। ভিডিওগুলো মিস করতে না চাইলে এখনই দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেল বাটন ক্লিক করুন। বেল বাটন ক্লিক করার ফলে আপনার স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিডিওগুলোর নোটিফিকেশন পৌঁছে যাবে।

দৈনিক আমাদের বার্তার ইউটিউব চ্যানেল  SUBSCRIBE করতে ক্লিক করুন।

 

‘বারাসাত ব্যারিকেড’ ঘোষণা তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের - dainik shiksha ‘বারাসাত ব্যারিকেড’ ঘোষণা তিতুমীর কলেজ শিক্ষার্থীদের রাতারাতি সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা সম্ভব না - dainik shiksha রাতারাতি সরকারি কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা সম্ভব না মনোনীত হয়েও বৃত্তি থেকে বঞ্চিত রাবির ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী - dainik shiksha মনোনীত হয়েও বৃত্তি থেকে বঞ্চিত রাবির ৯ শতাধিক শিক্ষার্থী পাঠ্যবই নির্ভুল করা হচ্ছে: গণশিক্ষা উপদেষ্টা - dainik shiksha পাঠ্যবই নির্ভুল করা হচ্ছে: গণশিক্ষা উপদেষ্টা আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার বেরোবির সাবেক প্রক্টর - dainik shiksha আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেফতার বেরোবির সাবেক প্রক্টর কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে - dainik shiksha কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা গ্রন্থটি এখন বাজারে মাদরাসা-ই-আলিয়ার ভবনে অস্থায়ী আদালত বন্ধের দাবি - dainik shiksha মাদরাসা-ই-আলিয়ার ভবনে অস্থায়ী আদালত বন্ধের দাবি কওমি মাদরাসা একটি অসমাপ্ত প্রকাশনার কপিরাইট সত্ত্ব পেলেন লেখক - dainik shiksha কওমি মাদরাসা একটি অসমাপ্ত প্রকাশনার কপিরাইট সত্ত্ব পেলেন লেখক দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে - dainik shiksha দৈনিক শিক্ষার নামে একাধিক ভুয়া পেজ-গ্রুপ ফেসবুকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা - dainik shiksha শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি নিয়ে নতুন নির্দেশনা বিচারকের সামনে যে হুমকি দিলেন কামরুল - dainik shiksha বিচারকের সামনে যে হুমকি দিলেন কামরুল please click here to view dainikshiksha website Execution time: 0.0034511089324951