ঘুষ নিয়ে দেনদরবার: সেই শিক্ষা কর্মকর্তা এখনো বহাল | বিবিধ নিউজ

ঘুষ নিয়ে দেনদরবার: সেই শিক্ষা কর্মকর্তা এখনো বহাল

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেনেয়ারা খানম জানান, অভিযোগের বিষয়টি আমি অন্য একজনের মাধ্যমে শুনেছি। এই অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

জুলাই বিপ্লবের পর দেশজুড়ে ঘুষ, দুর্নীতি অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি এবং সংস্কার কার্যক্রম চললেও একটুও বদলাইনি পিরোজপুরের নাজিরপুরের উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. হেনায়ারা খানম। আগের মতই তিনি ঘুষ নীতিতে অটল আছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এমন অভিযোগের পরেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক মিজ নিলুফার ইয়াসমিন জানান, তার ব্যাপারে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাকে ক্লোজ করার ব্যাপারে জানিয়েছি ঢাকা অফিসে। বিভাগীয় মামলার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেনেয়ারা খানম জানান, অভিযোগের বিষয়টি আমি অন্য একজনের মাধ্যমে শুনেছি। এই অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না।

এর আগে গত অক্টোবরে নাজিরপুরে দুই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার অভিযোগ উঠলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে খবর প্রকাশ করা হয়।

এর আগে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এক সহকারী শিক্ষক ঘুষ চাওয়ার কথোপকথনের একটি অডিয়ো ভাইরাল হয়।

এ ব্যাপারে ওই সহকারী শিক্ষক বেনজির ইসলাম গত ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বরাবরে এক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

জানা গেছে, উপজেলার ৯৩ নম্বর উওর পূর্ব বানিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ‌্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. বেনজির ইসলাম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হেনায়ারা খানমের ওই ঘুষ চাওয়ার অডিয়ো গত দুই দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এতে নাজিরপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসা. হেনায়ারা খানম ওই শিক্ষকের কাছে ঘুষের টাকা হিসাবে ১০ টাকা (১০ হাজার) চান। আর ওই ভুক্তভোগী শিক্ষক ঘুষ হিসেবে তাকে ৬ হাজার দিতে চান, কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা তাতে রাজি না হলে একপর্যায়ে ওই শিক্ষক পুরো ১০ হাজার টাকা দিতে চান। সে সময় শিক্ষা কর্মকর্তা ওই ঘুষের ১০ হাজার টাকা বিকাশে দিতে বলেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষক মো. বেনজির ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা কর্মকর্তা তার কাছে অনৈতিকভাবে ওই ঘুষের টাকা দাবি করেন। ঘুষের টাকা না দিলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের ভয় দেখান। পরে তার নির্দেশ অনুযায়ী বিকাশের মাধ্যমে ওই ১০ হাজার টাকা দেয়া হয়।

এ ব্যাপারে ৯৩ নম্বর উওর পূর্ব বানিয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামিল হোসেন বলেন, আমি এ ব্যাপারে কিছু জানিনা। তবে আমার স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক বেনজির ইসলাম তার কিছু অনিয়ম আছে এজন্য আমি তার বিরুদ্ধে সহকারী শিক্ষা অফিসার বরাবর এবং টিও স্যারের বরাবর ও ডিপিও স্যারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। এছাড়া আমার কিছু জানা নেই।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ মোস্তফা কামাল জানান, এ বিষয়ে আমি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত প্রক্রিয়াধীন।