উৎসব ভাতাহীন প্রাথমিকের দপ্তরিদের ঈদ | মতামত নিউজ

উৎসব ভাতাহীন প্রাথমিকের দপ্তরিদের ঈদ

আশা নিয়ে দপ্তরিরা ঢাকায় সমবেত হয়ে, তাদের দুঃখ কষ্ট বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা,  সচিব, মহাপরিচালকের কাছে তাদের আবেদন নিবেদন জানায়িছেন। আজও আবেদনের শুভ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি।

#উৎসব ভাতা #প্রাথমিক বিদ্যালয়

একই ছাদের নিচে কর্মরত প্রাথমিকের শিক্ষক ও দপ্তরি কাম প্রহরীরা। শিক্ষকেরা সরকারি  আর দপ্তরিরা আউট সোসিং কর্মচারী। বৈষম্য দূরীকরণ নিরসনের প্রত্যয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের  আমলেও তারা বৈষম্যের যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কারো ঈদের উৎসব  আর কারো পরিবারের নিদারুণ নিষ্ঠুর হাহাকার। আশা নিয়ে দপ্তরিরা ঢাকায় সমবেত হয়ে, তাদের দুঃখ কষ্ট বর্ণনা করে প্রধান উপদেষ্টা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা,  সচিব, মহাপরিচালকের কাছে তাদের আবেদন নিবেদন জানায়িছেন। আজও আবেদনের শুভ কার্যক্রম দৃশ্যমান হয়নি। ঈদে উৎসব ভাতাহীনভাবে চলে আসছেন ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। স্বাধীন দেশে অসংখ্য নিষ্ঠুর মানুষের কর্মস্থল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে। আউটসোসিং কর্মচারীরা অন্য সব অফিসে উৎসব ভাতা পেলেও বঞ্চিত হচ্ছে প্রাথমিকের দপ্তরিরা।

বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে প্রাথমিকের দপ্তরিরা জীবন অতিবাহিত করছেন। তাদের অন্যতম চাওয়া প্রাথমিকের শিক্ষকদের মতো চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর। প্রাথমিকের দপ্তরিরা মহা ভাগ্যবান! সমগ্র বাংলাদেশ এমনকি পৃথিবীতে তাদের মতো সৃষ্টিকর্তার এতো বেশি করুণা আর কোনো পেশার কর্মচারীদের নেই। এ প্রসঙ্গে পল্লী কবি জসীমউদ্দিনের কবিতার সঙ্গে মিল রেখে দুটো লাইন উপস্থাপন করছি, ‘সার্বক্ষণিক ডিউটিরত কর্মচারী দেখতে যদি চাও, বাংলাদেশে প্রাথমিকের দপ্তরিদের দেখে যাও’। প্রাথমিকের দপ্তরিরা আদিম যুগের ক্রীতদাসের মতো তারা সার্বক্ষণিক কর্মচারী। তারা মানুষ না রোবট? এ প্রশ্নেরও অবতারণা করে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩ মে দৈনিক শিক্ষাডটকম-এ ‘প্রাথমিকের দপ্তরিরাও মানুষ’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছিলাম। মহান সৃষ্টিকর্তা তাদের মানুষের রূপে সৃষ্টি করলেও সংশ্লিষ্টরা উচ্চ আদালতের রায়ের পরেও আজও তাদের মানব সন্তান হিসেবে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে প্রয়াত জনপ্রিয় কন্ঠশিল্পী সুবীর নন্দীর একটি গানের কথা মনে এলো। গানটি হলো- ‘এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কী আছে’?

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা মহাপরিচালক প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে অসংখ্য হৃদয়হীনের কর্মস্থান। তাই দেশ-বিদেশের বিদ্যমান শ্রম আইন উপেক্ষা করে দপ্তরি কাম প্রহরীদের সার্বক্ষণিক ডিউটি করতে বাধ্য করা হচ্ছে। দপ্তরি কাম প্রহরীদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে হাইকোর্টের রিট পিটিশন দায়ের করা হয়। ৩০ জানুয়ারি ২০১৯ হাইকোর্টের রিট পিটিশনের রায় ঘোষণা করা হয়, যাতে তাদের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে। রায়ে দপ্তরি কাম প্রহরী পদটি রাজস্ব খাতে নেয়ার আদেশ দেয় হাইকোর্ট। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের পক্ষে লিখিত জবাবে বলা হয়, ‘They (petitioners) only perform their duty during school period and in addition to perform their duty if It is required by the school managing committee for special school purpose only. There is no scope to consider. The word Sarbokhonik in condition no 2 of the appointment letter as 24 hours of a day. It usually means school’. কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য দপ্তরি কাম প্রহরীদের মাঠ পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাইকোর্টে মহাপরিচালকের লিখিত জবাবের পরেও সারাদেশে চলছে দপ্তরি কাম প্রহরীদের অমানবিক নির্যাতন। কতিপয় দপ্তরিকে বেআইনিভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। বুঝতে কষ্ট হয়, কতিপয় শিক্ষিত গোষ্ঠী কীভাবে সার্বক্ষণিক ডিউটির কথা ভাবেন? হাইকোর্টের রায়ের আলোকে এই পদটি রাজস্ব খাতে ও বিদ্যালয়ে চলাকালীন সময়ে কর্মঘণ্টা শুধু তাদের দাবি নয়। মানুষ ও নাগরিক হিসেবে কর্মক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করার অধিকার। দপ্তরি পদবিটি সেকালের। এ পদবি দিয়ে সংশ্লিষ্টরা তাদের কর্মস্পৃহাকে দাবিয়ে রেখেছেন। শিক্ষকদেরকে পাশাপাশি তারা প্রাথমিক শিক্ষার কাজে সহযোগিতা করে আসছে। এক কথায় তাদের সহযোগিতা ছাড়া বিদ্যালয়ে ব্যবস্থাপনা অনেকটা শৃঙ্খলাবিহীন। তাদের বিদ্যালয়ের সহায়ক পদবি রাখার প্রস্তাব রাখছি। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা দপ্তরিদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তর, বিদ্যালয় চলাকালীন কর্মঘণ্টা ও ‘বিদ্যালয় সহায়ক’ পদবিসহ উৎসব বোনাসের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবেন-এটাই প্রত্যাশা।

লেখক: শিক্ষাবিদ

#উৎসব ভাতা #প্রাথমিক বিদ্যালয়