জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, আয়-ব্যয়ের হিসাব নিশ্চিত করে কলেজগুলোকে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার আওতায় আনতে যাচ্ছে তার প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা ইম্পেরিয়াল কলেজের বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী এবং খিলগাঁও মডেল কলেজের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, “বেশিরভাগ কলেজে শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে মনিটরিং এর অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বার্ষিক অডিট করার কথা থাকলেও তা করা হচ্ছে না। এভাবে অভিভাবকহীন অবস্থায় আর যাই হোক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছেড়ে দেয়া যায় না। আমরা সংস্কার, জবাবদিহিতা এবং গুণগত শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এ সময় তিনি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান কর্তৃক কলেজগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাব পর্যবেক্ষণের জন্য বাধ্যতামূলক অডিটের উপর জোর দেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে সমন্বয় করে কলেজগুলোকে বাৎসরিক লেসনপ্ল্যান এবং পরীক্ষার রুটিন বছরের শুরুতেই ঘোষণা করতে হবে বলে নির্দেশনা দেন উপাচার্য।
শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দূরীকরণে এবং শ্রেণীকক্ষে তাদের আগ্রহী করে তুলতে ইনকোর্স পরীক্ষা সময়মতো নেয়া, ইনকোর্সের খাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো এবং মার্কস বাধ্যতামূলকভাবে সময়মতো বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেয়ার জন্য কলেজগুলোকে আহ্বান জানান তিনি। এ ব্যাপারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শীঘ্রই ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে উপাচার্য উল্লেখ করেন।
বর্তমান শিক্ষা কাঠামো এবং সনাতন পাঠ্যক্রমের তীব্র সমালোচনা করে অধ্যাপক আমানুল্লাহ আরো বলেন, “একটা স্বাধীন দেশের উচ্চশিক্ষা এভাবে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলতে পারেনা। আর এজন্যই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক কারিকুলাম অনুযায়ী ঢেলে সাজাতে সব ধরণের পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেয়া হয়েছে।” জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সকল বেসরকারি কলেজগুলোকে শতবর্ষের সরকারি কলেজ এবং ভালো ভালো কলেজ গুলোর মানদণ্ডে পৌঁছাতে নিরলস ভাবে কাজ করছে তার বিশ্ববিদ্যালয়। বিএড এবং ল’ কলেজগুলো নিয়ে বিস্তর অভিযোগ আসছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এটা শক্তভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন উপাচার্য।