চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শফিকুল ইসলাম মোহন নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাদকসেবন করে শ্রেণিকক্ষে মাতলামি করার অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হাসাদাহ ইউনিয়নের করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত শিক্ষক শফিকুল ইসলাম মোহন কোটচাঁদপুর থানার বেলেপাড়া গ্রামের নূর মোহাম্মদ চৌধুরী ছেলে ও করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
স্থানীয়রা জানান, করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শফিকুর রহমান মোহন মাদকাসক্ত। তিনি প্রায়ই গাঁজা সেবন করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অত্যধিক মারধরসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন। মঙ্গলবার দুপুরে স্কুলের মেইন গেট বন্ধ করা নিয়ে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া অভিকে মারধর করেন তিনি। পরবর্তীতে অভি নিজেকে বাঁচাতে স্কুল থেকে পালিয়ে বাড়িতে চলে যায়। তার বাবা শাহিন আলমকে বিষয়টি জানালে তিনি প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক পুনরায় শিক্ষার্থীর বাবার ওপর হামলা চালায়। এ সময় শাহিন আলমের বড় ভাই এনামুল বাধা দিতে এলে তাকে আহত করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি গ্রামবাসীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষককে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে হাসাদাহ ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা জানায়, শিক্ষক প্রায়ই মাদকসেবন করে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করেন। সে সঙ্গে মাতলামিসহ কারণে-অকারণে আমাদের গায়ে হাত তোলেন। আমরা রীতিমতো তাকে দেখে ভয়ে থাকি। তার এমন আচরণ আমাদের জন্য একটি আতঙ্কের কারণ।
অভিভাবক শাহিন আলম বলেন, একজন শিক্ষক মানুষ গড়ার কারিগর। কিন্তু তিনি যদি মাদকসেবন করে শ্রেণিকক্ষে এসে মাতলামি করেন, সেই সঙ্গে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের গায়ে হাত তোলেন সেটি কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। তাছাড়া মাদকাসক্ত একজন শিক্ষকের কাছে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রী কখনোই নিরাপদ নয়।
করিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন বলেন, শফিকুল ইসলাম মোহন মাদকাসক্ত। সে প্রতিনিয়ত গাঁজা সেবন করে স্কুলে প্রবেশ করে। সেই সঙ্গে স্কুলের শিক্ষকসহ ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে মারাত্মকভাবে দুর্ব্যবহার করে। এমনকি সে আমাকে প্রায়ই মারধরের হুমকি দেয়। আর এ কারণে আমি তার বিরুদ্ধে এর আগে থানায় অভিযোগ করেছি।
তিনি আরও বলেন, আমি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। সে সঙ্গে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পাঠদানের লক্ষ্যে তারা সঠিক পদক্ষেপ নেবেন এটা আমার প্রত্যাশা।
জীবননগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইসমাইল হোসেন বলেন, ঘটনাটি সত্যিই দুঃখজনক। এছাড়াও ইতোপূর্বে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তি প্রদান করা হয়েছে। তারপরও আজকে যেটি হয়েছে সেটি আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।