ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন বলেছেন, আওয়ামী লীগের শেষ বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দ কমাতে কমাতে হয়েছিলো জিডিপির ১ দশমিক ৯৬ শতাংশ! কল্পনা করতে পারেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে এত সামান্য বরাদ্দ। উদ্দেশ্য স্পষ্ট। নতুন একটা শিক্ষাক্রম চালু করতে গিয়েছিলো। এটিই ছিলো গোটা জনসংখ্যাকে বলদ বানিয়ে রেখে তাদের ওপর আজীবন শাসন করার মেগা প্রকল্পের অংশ।
তিনি বলেন, এই সরকারের লক্ষণও যে খুব ভালো, এখনো বলতে পারছি না। ১০টি সংস্কার কমিশন হলো অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত শিক্ষায় কোনো সংস্কার কমিশন হলো না।
মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এ কথা বলেন।
আরো পড়ুন: আমি ভিসি হলে যা করতাম
অধ্যাপক মামুন বলেন, একটি সরকার কতটা ভালো বা মন্দ তা বোঝার একটা বড় লিটমাস টেস্ট হলো সে সরকার লেখাপড়া ও স্বাস্থ্যে কতটা মনোযোগী এবং কতটা বরাদ্দ দেয় তার ওপর। আওয়ামীলীগ সরকারের শেষ ৩ বছরের বাজেটে শিক্ষায় বরাদ্দের দিকে নজর দিন। দেখবেন জিডিপির শতাংশে ক্রমাগত কমেছে।
এখন আবার আরেকদিকে শিফট দেখছি। এখন শুরু হয়েছে নারীদের শিক্ষা, নারীদের ড্রেস ইত্যাদি নিয়ে নানা ঘটনা। যে দেশে দেখবেন জন্মনিয়ন্ত্রণ নিয়ে চুলকানি আছে, নারী শিক্ষা নিয়ে চুলকানি আছে, বিজ্ঞান নিয়ে চুলকানি আছে, গবেষণা নিয়ে চুলকানি সে দেশ পিছিয়ে যাবে।
অধ্যাপক মামুন আরো বলেন, আমি নিশ্চিত কিছুদিনের মধ্যে আমেরিকার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামবে। আমার গবেষণা কোলাবোরেটর রাইসা দি‘সৌসা ইতোমধ্যেই সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। অন্যদেরকেও ভোকাল হতে দেখছি। এমনকি ইতালিয়ান নোবেল জয়ী জিওর্জিও পারিসি এটি নিয়ে ব্যাপকভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ঢাবির এই অধ্যাপক নিজের ফেসবুক পোস্টের সঙ্গে দেয়া মানচিত্রের ছবির কথা উল্লেখ করে বলেন, শিক্ষার সঙ্গে বলদামির যে ডাইরেক্ট সম্পর্ক তার পক্ষে এটি একটি ইন্টারেস্টিং মানচিত্র। এখানে দেখানো হয়েছে আমেরিকার কোন স্টেটে উচ্চ মাধ্যমিকের পর কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার হার। দেখা গেছে যে শহরের ৩০ শতাংশের বেশি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে সে শহরগুলো সবুজ থেকে গাঢ় নীল রং দিয়ে দেখানো হয়েছে। আর যে শহরগুলোতে ৩০ শতাংশের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার হার সেগুলোকে হলুদ ও লাল রং দিয়ে দেখানো হয়েছে।
মানচিত্রে হলুদ এবং লাল রঙের রাজ্যগুলো সাধারণত রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ কারণেই ট্রাম্প এবং ইলন মাস্ক লেখাপড়া ও গবেষণার প্রতি এত ক্ষেপা। তারা পারলে লেখাপড়া বন্ধ করে দিতো। দেখুন এরা ফেডেরাল শিক্ষা বিভাগ বন্ধ করে দিয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণায় অনুদান অনেক কমিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে STEM এ অনুদান। ভ্যাকসিন গবেষণা প্রায় বন্ধ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, NIH (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অফ হেলথ) ব্যাপকভাবে কোভিড-১৯ গবেষণার তহবিল কমানো শুরু করেছে।
অধ্যাপক মামুন বলেন, রিপাবলিকানরা আমেরিকাকে জ্ঞানহীন করে রাখতে চায়—কারণ অজ্ঞ মানুষকে সহজেই প্রভাবিত করা যায়। আমি গত কয়েক বছর ধরে লিখে আসছি যে গত আওয়ামীলীগ ঠিক এই কাজটিই করছিলো তবে ক্যামোফ্লেজ করে। জনগণের ভালো করার ভান করে অত্যন্ত সুকৌশলে এই দেশের শিক্ষাকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছিলো। তাদের এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে শামিল হয়েছিল যাদেরকে আমরা একাডেমিক হিসাবে সম্মান করতাম, ভালোবাসতাম।