এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আইবাস ডাবল প্লাস সফটওয়্যারে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারে (ইএফটি) জানুয়ারির এমপিও খুব শিগগিরই ছাড় হতে পারে। এ পর্যন্ত মোট ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৭৬১ শিক্ষক-কর্মচারীর ইএফটি প্রস্তুত হয়েছে। তাদের এমপিও ছাড়ের জন্য প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা দৈনিক আমাদের বার্তাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, পঞ্চম ধাপের কার্যক্রম চলছে। তবে এ পর্যন্ত যাদের ইএফটি প্রস্তুত হয়েছে তাদের এমপিও ছাড় দেয়া হবে। এমপিও ছাড় সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগের কথা ভেবে পঞ্চম ধাপের ইএফটি প্রস্তুত হওয়ার পরে সব ধাপের শিক্ষকদের জানুয়ারির এমপিও ছাড় হওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে মন্ত্রণালয়। যার ফলে খুব শিগগিরই ইএফটি প্রস্তুত শিক্ষক-কর্মচারীদের কাছে মেসেজ যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
এর আগে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের কাগজপত্র ঠিক আছে কিন্তু আইবাস ডাবল প্লাসের ভেরিফিকেশন বা তথ্য সঠিকভাবে পৌঁছায়নি- এমন সমস্যা যাদের তারা পঞ্চম ধাপে রয়েছেন।
এর আগে চতুর্থ ধাপের মোট ৮ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক-কর্মচারীর প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুলের ৬ হাজার ৩৮০ জন ও কলেজের ১ হাজার ৮৫৮ জন রয়েছেন।
চিফ অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ফিন্যান্স অফিসার এ বিভাজন অনুযায়ী বেতন-ভাতা ইএফটির মাধ্যমে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং তার কার্যালয় এই টাকা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার সরকারি অংশ বাবদ পরিশোধ করবেন।
এর আগে, সর্বশেষ তৃতীয় ধাপে স্কুল- কলেজের মোট ৮৪ হাজার ৭৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অ্যাকাউন্টে টাকা ছাড় হয়েছে। তাদের মধ্যে স্কুলের ৬৫ হাজার ৬৮৩ জন ও কলেজের ১৯ হাজার ৯৩ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, সরকারি শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতা পান। তবে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগার থেকে ছাড় হলেও তা রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকের মাধ্যমে ‘অ্যানালগ’ পদ্ধতিতে ছাড় হতো। এই অর্থ তুলতে শিক্ষকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হতো। ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে বেতন-ভাতা ছাড়ের জন্য কয়েক পর্যায়ে অনুমোদনসহ সংশ্লিষ্ট কাজে অনেক ক্ষেত্রেই এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পেতে দেরি হতো। অনেক সময় পরের মাসের ১০ তারিখের পরও আগের মাসের বেতন-ভাতা জুটতো।
এই পরিস্থিতির উত্তরণে গত ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবসে ইএফটিতে বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওর বেতন-ভাতা দেয়ার ঘোষণা দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজের ২০৯ জন শিক্ষক-কর্মচারীর অক্টোবর মাসের এমপিও ইএফটিতে ছাড় হয়। পরে গত ১ জানুয়ারি ১ লাখ ৮৯ হাজার শিক্ষক ইএফটির মাধ্যমে বেতন-ভাতার সরকারি অংশের টাকা পেয়েছেন। দ্বিতীয় ধাপে আরও ৬৭ হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে বেতন ছাড় হয়।